বন্ধ বাস চলাচল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রাজশাহী থেকে বন্ধ সারাদেশের বাস চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ এএম আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম ৩২ বার পঠিত
রাজশাহী থেকে বন্ধ সারাদেশের বাস চলাচল

রাজশাহী থেকে বন্ধ সারাদেশের বাস চলাচল

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৫ সেপ্টে ২০২৬
নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস বন্ধ থাকায় রাজশাহী থেকে বাইরে যেতে চাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোরে দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় রাজশাহীর পরিবহন মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিরোধের সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছানোর পর সেটি আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়। ঘটনার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের বিরোধের স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই শনিবার সকালে নাটোরে রাজশিয়া থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর আসে। এরপর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে পরিবহন মালিকপক্ষের দাবি। কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঢাকাসহ দূরপাল্লার গন্তব্যের যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও অনেকেই বাস না পেয়ে ফিরে যান। কেউ কেউ টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ঢাকাগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, আগেই বাসের টিকিট নিয়েছিলাম। কাউন্টারে এসে জানতে পারলাম বাস ছাড়বে না। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আরেক যাত্রী তানভীর আহমেদ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় এখন কীভাবে যাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা উচিত। রাজশাহীর এক পরিবহন শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবহন মালিকদের মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক। অপর শ্রমিক জাহিদ হোসেন বলেন, এক জেলার বাস অন্য জেলায় আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে বারবার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।